ধর্ষণ প্রতিরোধে Achiya – ধর্ষকদের কফিনের শেষ পেরেক!

23 January 2026 by admin

ধর্ষণ প্রতিরোধে Achiya – ধর্ষকদের কফিনের শেষ পেরেক!আপনার কি মনে আছে ২০২৫ সনে ৫ মার্চ বাংলাদেশে মাগুরা জেলার শ্রীপুরের জারিয়া গ্রামে নিজনান্দুয়ালি এলাকায় আত্মীয় কর্তৃক ছোট্ট নিষ্পাপ শিশু আছিয়া ধর্ষণের স্বীকার হয়েছিলো?সারাদেশে একসাথে জেগে উঠেছিলো।এরপর কি ধর্ষণ থেমে গিয়েছে? সকল ধর্ষক’কে কি আমরা শাস্তি দিতে পেরেছি? আমরা নিজেরা কি সচেতন হয়েছি?উত্তর হলো “না”।ইভেন আমরা তো ধর্ষক অপেক্ষা “ধর্ষণ” শব্দটাও এড়িয়ে চলি যেখানে মূলত আমাদের আওয়াজ উঠানোর কথা ছিলো যাতে সকল ধর্ষক ভয়ে অন্যায় হতে বিরত থাকে – আমাদের মাঝে মনুষ্যত্ব জাগে – আমরা তা হতে পারিনি।এই লেখাটি TrickBD লাইফস্টাইল ক্যাটাগরিতে “সাইকোলজিক্যাল এবং টেকনোলজিক্যাল” ক্যাটাগরিতে মার্ক করা হলো। Google ফেয়ার পলিসি অনুসারে কিছু স্পর্শকাতর শব্দ *** হিসেবে উল্লেখ করা হলো এবং পলিসি ফেয়ারনেস নিশ্চিত করা হলো। এই লেখাটি সেই আছিয়ার প্রতি ট্রিবিউটেড যাতে কখনো ওমন আছিয়াকে প্রাণ যেতে না হয়; সর্বোপরি আমরা সচেতন হতে সক্ষম হই।ধর্ষণপ্রথাগত সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতা রেখে ধর্ষণ বলতে যদি বোঝায় “এমন অবস্থা যাতে একজন ব্যক্তি কর্তৃক স্বীয় ইচ্ছা বা সম্মতি না থাকা স্বত্ত্বেও যৌনতামূলক আচরণের দ্বারা হয়রানি বা নির্যাতনের ঘটনা” – এখানে দুটি ফ্যাক্ট স্পেসিফাইড করা যেতে পারে:ফ্যাক্ট(১) আপন ইচ্ছা বা সম্মতির বিষয়টি আপেক্ষিক যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তিটি অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো যৌনতা ও ধর্ষণ সম্পর্কে অবগত না থাকা কিংবা জ্ঞান না থাকার দরূণ সে ইচ্ছা বা অনিচ্ছা প্রকাশ করতে সক্ষম নাও হতে পারে।উদাহরণস্বরূপ একটি শিশু (অথবা অপ্রাপ্তবয়স্ক) এর সাথে মিষ্টি চকলেটের আকর্ষণে যে প্রলোভন তৈরী করে যৌন ক্রিয়া করা হয় তাতে বাচ্চাটি যৌন হয়রানি হচ্ছে এটা বুঝতে না পারলেও উহা ধর্ষণ আর আওতাধীন। এই বিষয়টি আরেকটু নিম্ন অবস্থাতে বিবেচনা করলে কেউ যদি কোন পশুর বাচ্চা যেমন বিড়াল বা কুকুর শাবক কিংবা গরু বা ছাগল ইত্যাদি দ্বারা আপন যৌন তাড়নাতে কামনা ও বাসনা মেটায় সেটাও ধর্ষণ কেননা উহাতে উক্ত প্রাণীর স্বীয় ইচ্ছা ও অনিচ্ছার বিষয়টি একদমই উহ্য থাকে।অপরাপর পরিপূর্ণ জ্ঞান ও ইচ্ছা তথা সম্মতির পরও যৌন ক্রিয়ার শুরু বা মধ্যবর্তী কিংবা শেষ সময় অথবা যেকোন সময়ও ঐ যৌন ক্রিয়া ধর্ষণ হতে পারে যখন একজন শুরুতে যৌন ক্রিয়াতে লিপ্ত হওয়ার পরও যখন আর উহা চলমান রাখতে চাচ্ছে না কিংবা এমন যৌন আচরণ যা তিনি এক্সপেক্ট করছেন না কিংবা সহ্য করতে পারছেন না তখন যদি অপর ব্যক্তিটি জোরপূর্বক যৌনতা চালিয়ে যায় তখন তাকে ধর্ষণ বলা যেতে পারে – পরিস্থিতি ও পরিবেশ স্বাপেক্ষ সম্পর্কের দোহায় টেনে মানসিকভাবে একরূপ মৌনতায় বাধ্য করে যে যৌন ক্রিয়া উহাও ধর্ষণ বৈকি; উদাহরণস্বরূপ স্বামী ও স্ত্রী এর মাঝেও দাম্পত্য যৌন মিলন কখনো কখনো ধর্ষণ এর স্বরূপ হতে পারে।(২) যৌনতা মূলক আচরণ বিষয়টি কেবলই শারিরীক ক্রিয়াবাচক কর্মকান্ডেই নয় বরং উহা অস্বস্তিকর দৃষ্টি, কথোপকথন, আকার ইঙ্গিত, স্পর্শ ইত্যাদি বিভিন্ন আচরন হতে পারে।ধর্ষক কে?ধর্ষণের ক্ষেত্রে ধর্ষক যে কেউ হতে পারে তথাপি এটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে যদি তা যৌন লিস্পার নিকট পরাজিত হয় তবে একজন ধর্ষক স্বীয় পিতা/মাতা, ভাই/বোন, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু, পরিচিত বা অপরিচিতজন হওয়া অস্বাভাবিক নয় (শুনতে শ্রুতিকটু হলেও বাস্তবিকপক্ষে অসত্য নয়)।খেয়াল করুন এখানে ধর্ষণের স্বীকার হওয়াতে স্ত্রী লিঙ্গের মানুষেরাও ধর্ষক হতে পারে – উদাহরণস্বরূপ একটি নগ্ন শিশুকে দেখলে কিছু উঠতি বয়সী মেয়েরা যদি বাচ্চাটির সাথে মজার ছলে প্রাইভেট পার্ট (যেমন বাচ্চাটির ***) নিয়ে হাতাহাতি করে তবে সেটাকেও যৌন হয়রানি মূলক আচরণ বলা যেতে পারে।বাস্তবতায় আমাদের ধর্মীয় আচরণগত শিক্ষা, মূল্যবোধ, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিকতা ইত্যাদির তরে সিংগভাগ ক্ষেত্রে ধর্ষক অপরিচিতজন হওয়াটা যেমন স্বাভাবিক তেমনি একইভাবে এমন অনেক যৌন হয়রানিমূলক আচরণ যা প্রাকাশ্যে আসে না [যেমন বয়সে বড় ভাই / আংকেল / মামা / ভাসুর / দেবর / শুশুর ইত্যাদি যেকোন সম্পর্কের মানুষ কর্তৃক আচরণগত যৌন হয়রানি] – উহাও ধর্ষণ এবং তারাও ধর্ষক। খেয়াল রাখুন একজন ধর্ষক আপন সম্পর্কে যে কেউ হতে পারে তবে যখনই তার মস্তিষ্কে ধর্ষনের চিন্তা আসবে তখনই সেই সম্পর্কের বিষয়টি ছিন্ন হচ্ছে এবং তার পরিচয় হওয়া উচিত স্রেফ একজন ধর্ষক!বিষয়টি মোটেই সম্পর্কের সাথে রিলেট করে কম্প্রোমাইজ করার মতো বিষয় নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা, শিক্ষা, জীবনবিধান ও বিনোদনসহ সকল আপডেটেড খবর পেতে ভিজিট করুন BDSomachar.Com।

Recent Posts